তিশার সন্তান অন্য কারও, পুত্রবধূকে নিয়ে কুৎসায় সব সীমা পেরোলেন শাশুড়ি গিরিবালা!

তিশার সন্তান অন্য কারও, পুত্রবধূকে নিয়ে কুৎসায় সব সীমা পেরোলেন শাশুড়ি গিরিবালা!

সাবেক মিস পুণে তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর মামলায় তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য পেশ করল সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুত্রবধূর নামে কুৎসা ছড়াতে গিয়ে সমস্ত সামাজিক ও আইনি সীমা অতিক্রম করে ফেলেছেন গিরিবালা। পণ নেওয়া, জোর করে গর্ভপাত করানো এবং সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগ ও সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট গিরিবালার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

ডেটিং অ্যাপে আলাপ থেকে রহস্যমৃত্যু

২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পেশায় আইনজীবী সমর্থের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তিশা শর্মার। এর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ভোপালের শ্বশুরবাড়ি থেকে তিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুর আগে মায়ের কাছে পাঠানো একাধিক বার্তায় তিশা ভোপাল ছেড়ে নয়ডার বাপের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য কাতর অনুরোধ করেছিলেন, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে তিনি চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।

চরিত্র হনন ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা

তিশার মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী সমর্থ এবং শাশুড়ি গিরিবালার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তদন্তে মৃতার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে জানা গেছে যে, তিশাকে জোর করে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছিলেন তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি। শুধু তাই নয়, তিশার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে গর্ভস্থ সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করতে ছেলেকে লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন গিরিবালা। ৩৬ বছর বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকা গিরিবালার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি এই মামলার তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছেন এবং সোশাল মিডিয়ায় নিজের পক্ষে জনসমর্থন জোগাড়ের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ঘটনার প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ

সিবিআইয়ের দাবি, গিরিবালা সিং প্রভাবশালী হওয়ায় এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। আদালত সিবিআইয়ের এই যুক্তিকে মান্যতা দিয়ে গিরিবালার আগাম জামিন নাকচ করেছে এবং তাঁকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলায় তিশার স্বামী সমর্থ ইতিমধ্যেই সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার ফলে প্রভাবশালী মহলের পারিবারিক নির্যাতন এবং আইনি মারপ্যাঁচ খাটিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *