নিট ও সিবিএসইর পর এবার এসএসসি জিডি, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে বিজেপি, তীব্র তোপ অভিষেকের

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং সিবিএসই (CBSE) বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন বিতর্ক নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো নতুন বিতর্ক। স্টাফ সিলেকশন কমিশনের জেনারেল ডিউটি (SSC GD) কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থার খবর সামনে আসতেই দেশের পরীক্ষা নিয়ামক পরিকাঠামো এবং কেন্দ্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অলআউট আক্রমণে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে মেধার ‘পদ্ধতিগত ধ্বংসলীলা’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ ও কড়া ভাষার পোস্টে দেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিক যন্ত্রণা, গভীর ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তাঁর মতে, নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস থেকে শুরু করে সিবিএসই পরীক্ষার একের পর এক অনিয়ম এবং বর্তমানের এসএসসি জিডি নিয়োগের কেলেঙ্কারি— সব মিলিয়ে ভারতের যুবসমাজকে এক অন্তহীন উদ্বেগ এবং চরম প্রতারণার চক্রের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দিনের পর দিন ঘুম বিসর্জন দিয়ে এবং পরিবার জমি-জায়গা বা শেষ সম্বল বন্ধক রেখে যে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সোনালি সময় পড়াশোনার পিছনে উজাড় করে দিচ্ছে, বিনিময়ে এই রাষ্ট্র তাদের উপহার দিচ্ছে প্রশ্ন ফাঁস, যান্ত্রিক ত্রুটি, চরম অব্যবস্থা আর এক ভেঙে পড়া সিস্টেম।
মেধা ধ্বংসের সুপরিকল্পিত ছক এবং ভেঙে পড়া সিস্টেম
সাম্প্রতিক এসএসসি জিডি পরীক্ষায় প্রায় ৪৬ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের একটি বড় অংশই প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তান। ধারদেনা করে, পকেটে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে চোখের স্বপ্ন পূরণের আশায় শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়া, চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর খামতি থাকার যে সমস্ত রিপোর্ট সামনে আসছে, তা পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এটি স্রেফ কোনো সাধারণ অব্যবস্থা বা ম্যানেজমেন্টের অভাব নয়, এটি হলো সুপরিকল্পিতভাবে মেধার গলা টিপে হত্যা করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের একটা গোটা প্রজন্ম এই ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে যে, তারা যতই কঠোর পরিশ্রম করুক না কেন, এই মেরুদণ্ডহীন সিস্টেমটি মাত্র এক রাতের মধ্যেই তাদের সমস্ত স্বপ্ন তছনছ করে দিতে পারে।
তৃণমূল সাংসদের দাবি, ভারতীয় জনতা পার্টির শাসনে আজ পরীক্ষাগুলো দেশ গড়ার বা তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করার হাতিয়ার না হয়ে, বরং জاليةতি ও স্ক্যামের কারণে নিয়মিত সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিচ্ছে। নিট পরীক্ষা আগেই সিস্টেমের ভেতরের ফাটলগুলোকে সবার সামনে এনে দিয়েছিল, আর এখন একের পর এক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে এই পুরো ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঠিক কতটা পচন ধরেছে। এ দেশের পড়ুয়ারা সরকারের কাছে কোনো বাড়তি সুযোগ বা দাক্ষিণ্য ভিক্ষা করছে না, তারা শুধু একটি সৎ, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থা চাইছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রণকৌশল
কেন্দ্রের মোদী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সরকার দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ন্যূনতম সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে পারে না, তারা কোন মুখে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করার দাবি করে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে চালানো বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন যে, দেশের যুবসমাজ সবকিছু গভীরভাবে লক্ষ্য করছে এবং সময় এলে তারা এর যোগ্য जवाब দেবে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই তীব্র আক্রমণের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে নিট এবং এসএসসি জিডি-র মতো জাতীয় স্তরের সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে মোদী সরকারকে সংসদীয় কক্ষে কোণঠাসা করার জন্য বিরোধী শিবিরে এক বড়সড় যৌথ রণকৌশল তৈরি হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে।