জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যু মামলায় বড় মোড়, এবার সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন
জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যুর জট খুলতে অবশেষে তদন্তে বড় ধরনের গতি এসেছে। কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও এই মৃত্যুরহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি, তবে এবার সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশেষ আদালত। মঙ্গলবার বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের বিচারক শর্মিলা ভূঁইয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ পড়ে শোনান। যদিও শুনানিতে উপস্থিত সমস্ত অভিযুক্তই নিজেদের সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মামলার নিষ্পত্তিতে গতি আনতে আগামী ৮ জুন থেকে দৈনিক ভিত্তিতে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পাবলিক প্রসিকিউটর জিয়াউল কামার জানিয়েছেন যে, আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে এখন আর কোনও অতিরিক্ত শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে না। সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হবে এবং প্রসিকিউশনকে একবারে পূর্ণ সাক্ষীর তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের নেপথ্য কারণ ও আইনি ধারা
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস দ্বীপে উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের চতুর্থ সংস্করণে অংশ নিতে গিয়ে সাগরে সাঁতার কাটার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জুবিন গর্গের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসাম জুড়ে ৬০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়, যার প্রেক্ষিতে সিআইডি-র অধীনে বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জুবিনের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ব্যান্ড সদস্য ও আত্মীয়ের নাম উঠে আসে।
আদালত এদিন যাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন উৎসবের প্রধান আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ডের সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও অমৃত প্রভা মহন্ত, জুবিনের আত্মীয় তথা আসাম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গর্গ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বরা ও প্রবীণ বৈশ্য। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ধারা অনুযায়ী হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অবহেলায় মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শ্যামকানুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮টি এবং ম্যানেজার সিদ্ধার্থের বিরুদ্ধে ৭টি ধারা প্রযোজ্য হয়েছে।
সিঙ্গাপুর আদালতের রিপোর্ট বনাম ভারতীয় আদালতের তৎপরতা
এই ঘটনার একটি ভিন্ন দিক উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর পুলিশের সমান্তরাল তদন্তে। সিঙ্গাপুরের কোরোনার আদালতের রিপোর্টে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গায়ক অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই সমুদ্রে নেমেছিলেন এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ডুবে মারা যান।
তবে সিঙ্গাপুরের আদালতের এই রিপোর্ট সত্ত্বেও ভারতের আদালতে এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আগামী ৮ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া দৈনিক শুনানির মাধ্যমে এই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য এবং কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।