শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর এবার বিজেপি নেত্রীর পোস্টে কাকলির কমেন্ট, বাড়ছে দলবদলের তীব্র জল্পনা!

শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর এবার বিজেপি নেত্রীর পোস্টে কাকলির কমেন্ট, বাড়ছে দলবদলের তীব্র জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষের একটি পোস্টে কাকলির মন্তব্য এবং তার পাল্টা জবাব সেই জল্পনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল। দলের সব পদ ছাড়ার পর বিরোধী শিবিরের নেত্রীর সঙ্গে এই ভার্চুয়াল সৌজন্যকে নেহাত সাধারণ বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা

তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে গিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সরাসরি কেয়াকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘কেমন আছো গো?’ বিরোধী দলের নেত্রীর পোস্টে কাকলির এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এর কিছুক্ষণ পরেই বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সেই মন্তব্যের জবাবে লেখেন, ‘ভাল আছি। গুড টু সি ইউ কলিং অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড… ফাইনালি।’ অর্থাৎ, অবশেষে কাকলিকে স্পষ্ট কথা বলতে দেখে তাঁর ভালো লাগছে বলে উল্লেখ করেন কেয়া। দুই ভিন্ন মেরুর রাজনীতিবিদের এই কথোপকথন বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দূরত্ব বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই সাম্প্রতিক দূরত্বের সূত্রপাত মূলত দলীয় কোন্দল এবং পদ হারানোর ক্ষোভ থেকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে পুনরায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। সম্প্রতি বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি দলের বাকি সব পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। একই সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকারের কাছে মৌখিক নিগ্রহ ও মহিলাদের অবমাননার গুরুতর অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

দলীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুধবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলির যোগ দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কর্তৃক তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া— এই সমস্ত ঘটনাই ইঙ্গিত করছে যে বারাসাতের সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার যদি চূড়ান্তভাবে বিজেপিতে যোগ দেন, তবে তা শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, বিশেষ করে উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা রাজনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *