“নন্দীগ্রাম আন্দোলন সফল হত না ওকে ছাড়া”, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুখেন্দুশেখর

“নন্দীগ্রাম আন্দোলন সফল হত না ওকে ছাড়া”, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুখেন্দুশেখর

নন্দীগ্রামের নায়ক শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়

রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই দলের প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে শোরগোল ফেলেছে। দীর্ঘদিনের সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি দাবি করেছেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলন সফল হওয়ার নেপথ্যে শুভেন্দুর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। শুধু নন্দীগ্রাম নয়, কঠিন সময়ে সিপিএম-এর অত্যাচার থেকে তৃণমূল কর্মীদের রক্ষায় শুভেন্দুর অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি।

পরিশ্রমী নেতৃত্বের স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ার এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুখেন্দুশেখর বলেন, অত্যন্ত অল্প বয়স থেকেই শুভেন্দু বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শুভেন্দুকে একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী নেতা হিসেবে অভিহিত করে জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার এমন মানসিকতা খুব কম নেতার মধ্যেই দেখা যায়। শিশির অধিকারীর সঙ্গে নিজের চার দশকের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকারী পরিবারের সাথে তার দীর্ঘদিনের সখ্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বিদ্যমান। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে যে নতুন সরকার কাজ করছে, তাতে রাজ্যের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এই প্রবীণ সাংসদ।

দলে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কঠোর বার্তা

কেবল প্রশংসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি সুখেন্দুশেখর রায়, বরং দলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলেই দুটি পাওয়ার সেন্টার বা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থাকা উচিত নয়, কারণ এতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। অতীতে কংগ্রেসের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেছেন যে, নেতৃত্বের এই দ্বন্দ্ব দলের ভবিষ্যৎকে সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অসহনীয় নৈরাজ্য’ অবসানের কথা লিখে যেভাবে তিনি দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা তৃণমূলের অন্দরমহলে বড়সড় ফাটলের বার্তাই দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই মন্তব্য তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি আরও বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *