আমজনতার জ্বালানিতে থাবা কর্পোরেট দুনিয়ার, বড় সংকটের আশঙ্কায় কেন্দ্র নিল কড়া পদক্ষেপ

ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট কাটেনি, বরং ক্রমাগত বাড়ছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। এই আবহে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংকট। সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্প থেকে সস্তায় জ্বালানি কিনে নিচ্ছে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি। এই ঘটনার জেরে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য জ্বালানির জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
আর্থিক ক্ষতি ও সস্তার জ্বালানি কেনার হিড়িক
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের ওপর ভিত্তি করে শিল্প সংস্থাগুলির জন্য পাইকারি জ্বালানির দাম নির্ধারিত হয়। ফলে খুচরো ও পাইকারি দামের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লিতে খুচরো ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৯৫.২০ টাকা হলেও, শিল্প সংস্থাগুলির জন্য পাইকারি ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৪৯ টাকা। এই বিপুল আর্থিক সাশ্রয় করতে বহু শিল্প সংস্থা পাইকারি সরবরাহ এড়িয়ে সরাসরি সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে কম দামে তেল কিনছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমজনতার বরাদ্দে।
কড়া নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ
এই অবৈধ প্রবণতা রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বিশেষ দল গঠন করে কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। পেট্রোল পাম্প থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের অধীনে কালোবাজারি, অবৈধ মজুত এবং ব্ল্যাক মার্কেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এই সংকটের মাঝেই সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের সমস্ত চাহিদা পূরণ করা হবে।