বাংলার জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বড় পদক্ষেপ বিজেপির

বাংলায় সাফল্যের পরেই সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল ঘটাল ভারতীয় জনতা পার্টি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় স্তরে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বৃহস্পতিবার চার রাজ্যের নতুন সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেছে। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন অনুমোদিত এই নতুন তালিকায় দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং ত্রিপুরার সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ নেতাদের কাঁধে।
সাংগঠনিক সংস্কারের নতুন কৌশল
এই রদবদলকে বিজেপির বৃহত্তর সাংগঠনিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রাকে দিল্লির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি হরিয়ানায় অর্চনা গুপ্তা, পাঞ্জাবে কেবল সিং ধিলোঁ এবং ত্রিপুরায় অভিষেক দেবরায়কে রাজ্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকটি মাথায় রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংয়ের জারি করা এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
নেতৃত্বের পরিচিতি ও দায়বদ্ধতা
নিযুক্ত চার নেতার রাজনৈতিক পটভূমি যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। দিল্লির নতুন সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা পূর্ব দিল্লির সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও মেয়র হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই দিল্লির রাজনীতিতে বিজেপি নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে। অন্যদিকে, পাঞ্জাবে কেবল সিং ধিলোঁর নিয়োগ গেরুয়া শিবিরের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি দীর্ঘকাল কংগ্রেসের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও এখন দলের নতুন মুখ হিসেবে পাঞ্জাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার চ্যালেঞ্জ নেবেন। এছাড়া হরিয়ানার অর্চনা গুপ্তা এবং ত্রিপুরার অভিষেক দেবরায়, উভয়ই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠনের ভিত শক্ত করার কাজ করবেন বলে মনে করছে নেতৃত্ব।
আসন্ন নির্বাচনগুলোর আগে এই রদবদলের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তেমনি আঞ্চলিক শাখা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় সুসংহত করে নির্বাচনী লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার পথ প্রশস্ত করছে।