বিজেপি ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই বাংলায় ৬৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে আসছে আমুল

বিজেপি ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই বাংলায় ৬৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে আসছে আমুল

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক মাসের মধ্যেই রাজ্যে বড়সড় শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলায় প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে দেশের অন্যতম শীর্ষ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থা ‘আমুল’। রাজ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্রসেসিং প্ল্যান্ট গড়ার লক্ষ্যে এই বিপুল অঙ্কের মেগা প্রকল্প নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিন কয়েক আগেই বাংলায় শিল্প আনতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তার পরপরই আমুলের এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের খবর সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিনিয়োগ সংক্রান্ত খবরটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, আমুলের এই মেগা প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দুগ্ধ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে আমুলের এই বিনিয়োগের বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

বিনিয়োগের কারণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল। তারই ফলস্বরূপ আমুল বাংলায় এই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে।

শিল্পায়নে কেন্দ্রের সহযোগিতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় শিল্পতালুক গড়ে তুলতে কেন্দ্রের সহযোগিতা চাইছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুর, অশোকনগর, রানাঘাট, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম—এই পাঁচটি জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে কোন ধরনের শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে, তার একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। এই তালিকার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা এগিয়েছে। আমুলের এই ডেয়ারি প্ল্যান্টটি শেষ পর্যন্ত কোথায় স্থাপিত হয় এবং রাজ্য সরকার কবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *