স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়লে মিলবে ছাড়, অনুপ্রবেশকারীদের বড় বার্তা অমিত শাহের
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অনুপ্রবেশ রুখতে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ (থ্রি-ডি) নীতির পর এবার অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এক বড় ঘোষণা সামনে এল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা যদি স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে যান, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রাজ্য সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করবে না এবং বিনা বাধায় সীমান্ত অতিক্রম করতে সব রকম সহযোগিতাও করা হবে।
সীমান্তে উল্টো স্রোত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি
গুজরাট সফর চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করত, এখন সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার বাংলাদেশী নাগরিক সীমান্ত দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বসিরহাটের হাকিমপুর চেক পোস্ট সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যতের প্রভাব
পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাংলায় নির্বিচারে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রের নীতির পক্ষে রায় দিয়েছেন। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল বৈধ নাগরিকদের হাতেই থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই নরম-গরম নীতির ফলে একদিকে যেমন আইনি জটিলতা ছাড়াই বহু অবৈধ নাগরিককে স্বদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনই সীমান্ত সুরক্ষায় এক বড়সড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সাফল্য মিলবে।