টিকা না নিলে মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, ফর্মে নতুন শর্ত ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক
রাজ্যজুড়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ। অনলাইন এবং অফলাইন, দুই মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতেই এই প্রকল্পের ১২ পাতার বিস্তারিত ফর্মটি নিয়ে সর্বত্র জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ফর্মে আবেদনকারীর সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি এমন কিছু শর্ত ও তথ্য চাওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানামুখী বিশ্লেষণের ঝড় উঠেছে।
শিশুদের টিকাকরণ ও নতুন শর্তের কড়াকড়ি
আবেদনপত্রের ৯ নম্বর পাতায় পরিবারের শিশুদের জন্ম ও সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি তাদের টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন স্ট্যাটাস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে। একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সঙ্গে শিশুদের টিকাকরণের বিষয়টি যুক্ত করায় ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই বিভ্রান্তি দূর করে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকারি নিয়ম মেনে শিশুদের সময়মতো প্রতিষেধক টিকা না দেওয়ালে এই প্রকল্পের ভাতা মিলবে না। সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণ না করলে আর্থিক সহায়তার দাবিদার হওয়া যাবে না বলেই প্রশাসনের মনোভাব।
আবেদন বাতিল ও সম্ভাব্য প্রভাব
টিকাকরণের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার বিষযেও ফর্মে কঠোর নির্দেশিকা রয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, খারিজি মাদ্রাসায় সন্তান পড়লে সংশ্লিষ্ট পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে, কারণ এই ধরনের প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়। প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে বহু পরিবার নিয়মের বেড়াজালে পড়ে ভাতা পাওয়া থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ ও শহরতলির পরিবারগুলোতে শিশুদের টিকাকরণ এবং সরকারি অনুমোদিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর হার বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ৩ জুন থেকে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (ডিবিটি) এই যোজনার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।