কলকাতা থেকে জেলা, তৃণমূল কার্যালয়ে এবার মিলল সরকারি ত্রাণ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার

কলকাতা থেকে জেলা, তৃণমূল কার্যালয়ে এবার মিলল সরকারি ত্রাণ ও অক্সিজেন সিলিন্ডার

কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শাসকদলের একাধিক কার্যালয় এবং দলীয় কর্মীর ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও জরুরি নথিপত্র উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলকাতার সার্ভে পার্ক থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর, সর্বত্রই উদ্ধার হচ্ছে সরকারি ছাপ মারা ত্রিপল, জনতা স্টোভ, ব্লিচিং ছড়ানোর মেশিন এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার। আমজনতার জন্য আসা এই দুর্যোগ মোকাবিলা সামগ্রী কেন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে মজুত ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।

কার্যালয় বদলের পরেই চক্ষুচড়কগাছ

কলকাতার সার্ভে পার্ক থানা এলাকার পূর্ব রাজাপুর ডি ব্লক এলাকায় একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এক সময় সিপিএমের দখলে থাকা এই কার্যালয়টি পরবর্তীতে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর কার্যালয়টি পুনরায় সিপিএমের হাতে ফেরে। শুক্রবার সেই কার্যালয়ের দরজা খুলে পরিষ্কার করার সময় কয়েকটি সন্দেহভাজন ট্রাঙ্ক দেখতে পান সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা। ট্রাঙ্কগুলি খুলতেই ভেতর থেকে উদ্ধার হয় সরকারি সিলমোহর দেওয়া প্রচুর ত্রিপল, মশারি ও অন্যান্য সামগ্রী। এর পাশাপাশি বারুইপুর ও সোনারপুর এলাকার বাসিন্দাদের নামে থাকা বেশ কিছু জমির নথিপত্র এবং একটি রাইফেল কেনার স্লিপও উদ্ধার হয়েছে, যা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।

জেলায় জেলায় মজুত ত্রাণের হদিশ

কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেও একই ধরনের ছবি ধরা পড়েছে। গঙ্গাসাগরের খাস রামকর চর এলাকায় ভূপতি মাইতি নামে এক তৃণমূলকর্মীর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ৪৩টি সরকারি ত্রিপল, ১১ বস্তা মাছের খাবার এবং ১৩ বস্তা চুন উদ্ধার করে প্রশাসন। এই সামগ্রীগুলির গায়েও সরকারি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সিলমোহর রয়েছে। যদিও ধৃত কর্মীর দাবি, বুথ সভাপতি ভোটের আগে দায়িত্ব নিয়ে এই জিনিসগুলি তাঁর দোকানে রেখে গিয়েছিলেন।

প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিপর্যয় মোকাবিলা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ এই সরকারি সামগ্রী সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না করে কেন দলীয় কার্যালয় ও নেতার দোকানে আটকে রাখা হলো, তা নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে সরকারি ত্রাণের ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি বলে আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *