স্বস্তির বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত তিলোত্তমা, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কলকাতায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

স্বস্তির বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত তিলোত্তমা, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কলকাতায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর গরমের পর অবশেষে কলকাতায় নামল বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি। কিন্তু সেই স্বস্তি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিল চরম দুর্ভোগে। শুক্রবার দুপুরে আচমকা কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গিয়ে ধেয়ে আসে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টো ৪৫ থেকে ২টো ৪৭ মিনিটের মধ্যে কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটারে পৌঁছয়। একই সময়ে দমদমে ঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তাণ্ডবে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা।

ঝড়ের দাপটে প্রাণহানি ও মলে ক্ষয়ক্ষতি

প্রবল ঝড়ের জেরে প্রিন্সেপ ঘাট সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ঝড়ের সময় গাছের ভারী ডাল ভেঙে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, এলোপাহাড়ি হাওয়ার দাপটে দক্ষিণ কলকাতার সাউথ সিটি মলের সামনের অংশের একাধিক কাচ ভেঙে পড়ে। তবে মল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় দ্রুত সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং মলের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।

শহরজুড়ে উপুড় হওয়া গাছ ও জলযন্ত্রণা

ঝড়ের তীব্রতায় সল্টলেক, হরিশ মুখার্জি রোড, আলিপুর ও বিড়লা তারামণ্ডল-সহ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় একের পর এক গাছ উপড়ে পড়েছে। সল্টলেকে একটি বড় গাছ চারচাকা গাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে এবং গাছ ভেঙে এক মোটরবাইক আরোহী আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গাছ পড়ে বহু রাস্তায় যান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

ঝড়ের পরপরই শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিতে উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি থেকে মধ্য কলকাতার সিআর অ্যাভেনিউ এবং দক্ষিণ কলকাতার বহু রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে যায়। ফুটপাত জলের তলায় চলে যাওয়ায় পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এবং বহু ছোট গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে।

দুর্যোগের কারণ ও আগামী পূর্বাভাস

আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য পাকিস্তান থেকে অভ্যন্তরীণ ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা এবং উত্তর ওড়িশা সংলগ্ন ঘূর্ণাবর্তের জেরেই দক্ষিণবঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এর ফলেই এই প্রবল ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই দুর্যোগের জেরে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং উত্তরবঙ্গের মালদা ও দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *