মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল ইরান, ট্রাম্পের বুকে কাঁপন ধরাচ্ছে রহস্যময় ‘আরাশ-ই-কামানগির’

নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার মাঝেই আমেরিকার অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ধ্বংস করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনকে কড়া জবাব দিতে তেহরান এবার ব্যবহার করেছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এক নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আরাশ-ই-কামানগির’। ফার্সি ভাষায় এর অর্থ ‘তীরন্দাজ আরাশ’। ইরানের লোকগাথার এক কিংবদন্তী বীর যোদ্ধার নামানুসারে এই সমরাস্ত্রের নামকরণ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপের কাছে মার্কিন ড্রোনটি সফলভাবে ভূপাতিত করার মাধ্যমে এই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হলো।
কিছুদিন আগেই আমেরিকা দাবি করেছিল যে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তারা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যের পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, তেহরানের আস্তিনে আর কী কী মারণাস্ত্র লুকিয়ে রয়েছে। মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘোরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার স্টিলথ প্রযুক্তিও ব্যর্থ
ইরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিশদ কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আরাশ-ই-কামানগির’ রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তিকে অনায়াসে শনাক্ত করতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি ইরানের আগের কোনো স্বল্পপাল্লার সমরাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নত সংস্করণ হতে পারে। এই ব্যবস্থাটি প্রথাগত রাডারের নির্দেশের উপর নির্ভর না করে মূলত তাপ শনাক্তকরণ বা ‘হিট-সিকিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে শত্রুপক্ষের বিমান বা ড্রোনকে নিখুঁতভাবে নিশানা করে। এটি অত্যন্ত সহজে এবং দ্রুত যেকোনো স্থানে মোতায়েন করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা সম্ভব।
নেপথ্যের কারণ ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
এই সামরিক অভিযানের প্রধান কারণ হলো ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন নজরদারি রুখে দেওয়া এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব জাহির করা। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ক্রমাগত চাপের মুখে ইরান যে সামরিক দিক থেকে পঙ্গু হয়ে পড়েনি, এই ঘটনা তারই স্পষ্ট প্রমাণ। ‘আরাশ-ই-কামানগির’ এর কার্যকারিতা প্রমাণ করে যে ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরি ও তা নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বুকে নতুন করে ভয়ের আবহ তৈরি করেছে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ইরানের দিকে ঝুঁকিয়ে দিচ্ছে।