নাবালিকা বধূর রহস্যমৃত্যু বর্ধমানে, আত্মহত্যার নেপথ্যে লুকিয়ে কোন কারণ?

নাবালিকা বধূর রহস্যমৃত্যু বর্ধমানে, আত্মহত্যার নেপথ্যে লুকিয়ে কোন কারণ?

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে এক ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত নাবালিকার নাম লাভলি সওদাগর। ন’মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকা শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত কেন তাকে এই চরম পথ বেছে নিতে হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

অকালপরিণতির নেপথ্য কাহিনি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা লাভলির আসল বাড়ি ভাতারের বামশোর গ্রামে। ছোটবেলায় মাতৃহীন হওয়া লাভলির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। কাটোয়ার মুস্থুলি গ্রামে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে বাণেশ্বর মাজি নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাত্র ন’মাস আগে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর বাণেশ্বর কর্মসূত্রে হায়দরাবাদে চলে গেলে লাভলি তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেই থাকতে শুরু করে। শুক্রবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় এবং সাড়াশব্দ না মেলায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকেন। সিলিং থেকে লাভলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, এর নেপথ্যে কোনো মানসিক অবসাদ, পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এই ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় নাবালিকা বিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি এবং তার পরবর্তী মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক সুরক্ষার অভাবকে পুনরায় কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের পর স্বামীর দূর রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং শ্বশুরবাড়িতে একাকীত্ব বা মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা এই চরম সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মৃতার স্বামীকে খবর পাঠিয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *