ঝাড়গ্রামে ভরদুপুরে মাঝরাস্তায় তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ঝাড়গ্রামে ভরদুপুরে মাঝরাস্তায় তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল এলাকায় এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর এলাকায়। গুলিবিদ্ধ ওই তৃণমূল কর্মীর নাম আকুল সেনাপতি (৪৭)। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার দুপুরের এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। খবর পেয়েই গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

আগে থেকেই ওত পেতে ছিল দুষ্কৃতীরা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত আকুল সেনাপতি গোপীবল্লভপুর এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য এবং তাঁর বাড়ি আমরদা অঞ্চলের মদনশোল গ্রামে। শুক্রবার দুপুরে তিনি তাঁর আশা কর্মী স্ত্রীকে গোপীবল্লভপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে বাইকে করে আনতে যাচ্ছিলেন। বর্গিডাঙা হাসপাতাল রোড এলাকায় পৌঁছাতেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চালায়। আকুলবাবুর বুকের ডান দিকের বগলের কাছে গুলি লাগে। জনবহুল এলাকায় আচমকা এই হামলার জেরে হুলুস্থুল পড়ে যায় এবং সেই সুযোগে রাস্তার পাশের একটি জমি দিয়ে চম্পট দেয় আততায়ীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপীবল্লভপুর হাসপাতালে নিয়ে যান, পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বনাম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। গোপীবল্লভপুর এক ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ জানান, আকুল সেনাপতি দলের সক্রিয় সদস্য এবং নির্বাচনেও সামনে থেকে কাজ করেছেন, তাই রাজনৈতিক কারণেই এই হামলা হতে পারে। তিনি পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘দুর্নীতির ফল’ এবং অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দেবাশিষ কুণ্ডু জানান, এই ঘটনার সাথে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই এবং বিজেপি হিংসাকে প্রশ্রয় দেয় না। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পুরনো কোনো শত্রুতার জেরে এই গুলি চালনার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে এবং কারা এই হামলার সাথে জড়িত, তা নিশ্চিত করতে সবকটি দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *