লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অভিনব জালিয়াতি, পুরুষের অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে মহিলাদের টাকা!

মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পর এবার হুগলির রিষড়ায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে এক চরম অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। যোগ্য সুবিধাভোগী বঞ্চিত হলেও, এক যুবকের অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢোকার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার জেরে শ্রীরামপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতারিত এক মহিলা, যা প্রশাসন ও স্থানীয় পুরসভার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
টাকা গেল কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠের অ্যাকাউন্টে
রিষড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উর্মিলা দেবী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প শুরু হওয়ার পর সমস্ত সঠিক নথিপত্র দিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা আসছিল না। সমস্যা সমাধানে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর পার্থসারথী গুপ্তার কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি। এমনকি মহকুমা শাসকের (এসডিও) দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে, সেখান থেকেও তাঁকে কাউন্সিলরের সঙ্গেই কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অবশেষে ব্যাংকে গিয়ে উর্মিলা দেবী জানতে পারেন যে, আবেদনপত্রে তাঁর নাম থাকলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দেওয়া হয়েছে বিজয় সাউ নামের এক যুবকের, যিনি স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
মুখ বন্ধ রাখতে ঘুষের চেষ্টা ও প্রভাব
অভিযোগকারী মহিলার দাবি, এই জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলায় তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার এই মরিয়া চেষ্টা এবং একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ টাকা চলে যাওয়া—গোটা প্রক্রিয়ার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে উর্মিলা দেবী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সরকারি প্রকল্পের তথ্য যাচাইকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিদের একাংশের গাফিলতি বা যোগসাজশ এই ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন ক্ষোভ বাড়ছে, তেমনই প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য মহিলারা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আগামীদিনে এই ধরণের জালিয়াতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।