টিটাগড়েও তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণইস্তফা, এবার কি ভাঙতে চলেছে পুরসভা?

টিটাগড়েও তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণইস্তফা, এবার কি ভাঙতে চলেছে পুরসভা?

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট শুরু হয়েছে। ভাটপাড়া, উত্তর ব্যারাকপুর, হালিশহর এবং নোয়াপাড়ার পর এবার গণইস্তফার ঢেউ আছড়ে পড়ল টিটাগড় পুরসভাতেও। শুক্রবার টিটাগড় পুরসভার উপ-পুরপ্রধান তথা ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান-সহ মোট ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই গণইস্তফার জেরে ২৩ ওয়ার্ডের টিটাগড় পুরসভার ভবিষ্যৎ এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নেতৃত্বের উদাসীনতা ও পরিষেবার সংকট

পদত্যাগী কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিল, কাউন্সিলর মুজিবর রহমান, সরস্বতী দেবী, আশা শর্মা এবং ইনাম খান। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এলাকায় স্বাভাবিক নাগরিক পরিষেবা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা জানান, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে দলীয় বা জেলা স্তরের কোনও বড় নেতা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নেতৃত্বের এই অনুপস্থিতি এবং উদাসীনতার কারণেই মানুষের কাছে দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখতে তাঁরা পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে প্রশাসনিক পদ ছাড়লেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামাজিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

পুরসভা ভাঙার জল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

টিটাগড় পুরসভার মোট ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ইতিমধ্যেই দু’জন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। এরপর একযোগে ৬ জনের ইস্তফায় পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আগামী সোমবার আরও কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদি সত্যিই আরও পদত্যাগ ঘটে, তবে ম্যাজিক ফিগার হারিয়ে পুরসভাটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার মুখে পড়বে। ফলে রাস্তাঘাট সংস্কার, জল সরবরাহ বা সাফাইয়ের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবাগুলি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি অবশ্য দাবি করেছেন যে, কাউন্সিলরদের এই পদত্যাগে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হবে না এবং মানুষ সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি বা অন্য কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে পদত্যাগ করলেও আইন ও তদন্তের হাত থেকে রেহাই মিলবে না। সব মিলিয়ে, একের পর এক পুরসভায় শাসকদলের এই ভাঙন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *