প্রিভিলেজ কমিটির খাঁড়া নামতে পারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর?

রাজনীতিতে চিরশত্রু বা চিরমিত্র বলে কিছু হয় না, তবে লোকসভার ভেতরে দুই হেভিওয়েট সাংসদের বিবাদ এবার আইনি ও সংসদীয় জটিলতার রূপ নিতে চলেছে। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে অভব্য আচরণ ও মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কাকলির এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, স্পিকার এই অভিযোগ প্রিভিলেজ বা এথিক্স কমিটিতে পাঠালে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন কল্যাণ, এমনকি হতে পারে সাসপেনশনও। বিস্ময়কর বিষয় হলো, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই প্রিভিলেজ কমিটির একজন সদস্য।
বিবাদের নেপথ্য কারণ
দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই নেতার সম্পর্ক মধুর ছিল না। তবে সম্প্রতি সমাপ্ত নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সেই অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের লেটার হেডে লেখা স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, লোকসভার ভেতরে তাঁকে বারবার মৌখিক হেনস্থা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, অন্য মহিলা সাংসদদের সঙ্গেও শ্রীরামপুরের সাংসদ আপত্তিকর ও অভব্য আচরণ করেছেন বলে চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি কল্যাণী জোনাল হেডকোয়ার্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি এবং তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা এই সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরদিনই কল্যাণের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সংসদীয় নিয়ম ও সম্ভাব্য প্রভাব
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সাংসদের বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়লে স্পিকার তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রিভিলেজ কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। কমিটি বিষয়টি আমলে নিলে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান শুরু হবে। নিয়ম মেনে উভয় পক্ষকে তলব করে তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে কমিটি। এই কমিটিই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তার সুপারিশ স্পিকারের কাছে জমা দেবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার নিজেই। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ পদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সাসপেন্ড হতে পারে, যা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সংসদীয় অবস্থানের ওপর বড়সড় ধাক্কা এনে দেবে।