রানওয়ের পাশে শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে বাড়ছে জল্পনা, দ্বিধাদ্বন্দ্বে কমিটি

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের ঠিক পাশেই অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত। বিমানবন্দরের প্রাচীরের ভেতরে থাকা এই শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের জন্য সম্প্রতি নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। তবে রাজ্য সরকারের আকর্ষণীয় প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে এখনও দোলাচলে রয়েছে মসজিদ কমিটি।
নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘদিনের টালবাহানা
১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর ১৯৬২ সালে এর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেই সময় যশোর রোড ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও মসজিদটি বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরেই থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রানওয়ের একেবারে ঢিলছোড়া দূরত্বে মসজিদটি অবস্থিত হওয়ায় বিমানের টেক-অফ ও অবতরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন ধরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গত ৩০ বছর ধরে এই স্থানান্তরের বিষয়টি একাধিকবার আলোচনায় এলেও স্থানীয় বাধা ও প্রশাসনিক ঢিলেমির কারণে বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়া নতুন গতি পেয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও কমিটির অবস্থান
সমস্যা সমাধানে সর্বজনমতের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করতে চাইছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে স্থানীয় বিধায়ক ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এরপরই বিশেষ প্রতিনিধি দল মসজিদটি পরিদর্শন করে এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটির পক্ষ থেকেও বৈঠক করা হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় পরিসরে একটি নতুন মসজিদ তৈরি করে দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা বিমানবন্দরের ক্ষতি বা নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে চান না এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধিতাও করছেন না। তবে বহু মানুষের আবেগ জড়িত থাকায় এবং ইদের নমাজের মতো বড় জমায়েত হওয়ার কারণে, এককভাবে স্থানান্তর বা ভাঙার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় তাঁরা এই মুহূর্তে নেই। ফলে বিমান সুরক্ষার স্বার্থে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত সম্পন্ন হবে, তা এখন আলোচনার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে।