নথি লোপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এবার শ্রীঘরে ইন্দ্রনীল ঘনিষ্ঠ ভদ্রেশ্বরের ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ!

নথি লোপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এবার শ্রীঘরে ইন্দ্রনীল ঘনিষ্ঠ ভদ্রেশ্বরের ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক পুরসভায় ভাঙন ও দুর্নীতির অভিযোগে ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এবার পুরসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি লোপাট এবং এলাকায় অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খান। চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফিরোজকে ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাঁকে চন্দননগর আদালতে পেশ করা হবে।

অভিযোগের তির ও নাটকীয় গ্রেপ্তারি

২০২২ সালের পুরভোটে তেলিনিপাড়া থেকে জয়ী হয়ে ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে বসেন ফিরোজ খান। রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আস্থাভাজন হওয়ার সুবাদেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে তেলিনিপাড়ায় অশান্তি পাকানো এবং পুরসভার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার খোদ ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে ভদ্রেশ্বর থানায় সরকারি নথি গায়েব করার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চন্দননগরের ডিসিপি জানিয়েছেন, নথি লোপাটের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগগুলোও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পতনের নেপথ্যে ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই গ্রেপ্তারি ভদ্রেশ্বর পুরসভার অভ্যন্তরীণ সংকটকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। চব্বিশ ঘণ্টা আগেই, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তীসহ তৃণমূলের আটজন কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। ২২টি ওয়ার্ড বিশিষ্ট এই পুরসভাটি এতদিন বিরোধী শূন্য ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে শাসক শিবিরের ভরাডুবির পর থেকেই সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। মেয়াদ শেষের অনেক আগেই পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে, প্রভাবশালী নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তারি ও পদত্যাগের ফলে ওই অঞ্চলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *