আরএসএস-এর ইচ্ছেরই জয়, শুভেন্দুর নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক সংঘের পুরনো মুখ

আরএসএস-এর ইচ্ছেরই জয়, শুভেন্দুর নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক সংঘের পুরনো মুখ

বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভার বড়সড় সম্প্রসারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতার লোকভবনে নতুন করে আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। এই সম্প্রসারণের পর শুভেন্দু সরকারের মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চল্লিশে। তবে নতুন এই মন্ত্রিসভার সমীকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, নতুন মন্ত্রিসভায় কার্যত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর দাপট এবং ইচ্ছেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

মন্ত্রিসভায় সংঘের আধিপত্য

রাজনৈতিক মহলের মতে, আরএসএস নেতৃত্ব প্রথম থেকেই তাদের পুরনো অবস্থানে অনড় ছিল। সংঘ চেয়েছিল নতুন সরকারের স্পিকার পদ থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যেন তাদের পুরনো ও বিশ্বস্ত মুখেরা প্রাধান্য পান। সোমবারের শপথগ্রহণের পর স্পষ্ট যে, সংঘের সেই দাবিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভার রাশ যে পরোক্ষে আরএসএস-এর হাতেই থাকছে, তা এই রদবদল থেকে পরিষ্কার।

কারা পেলেন ঠাঁই

দফতর বণ্টন এখনও চূড়ান্ত না হলেও যে সমস্ত আরএসএস ঘনিষ্ঠ পুরনো মুখ মন্ত্রিসভায় বড় জায়গা পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দুধকুমার মণ্ডল ও স্বপন দাশগুপ্ত। এছাড়াও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী। এরা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক মহলে কট্টর সংঘ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন আরএসএস ঘনিষ্ঠ মুখকে এই নতুন মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব

নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্ত্রিসভা গঠন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘের পুরনো ও অভিজ্ঞ মুখদের মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার প্রধান কারণ হলো দলের আদর্শগত ভিত্তি মজবুত রাখা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। তবে সরকার পরিচালনায় এই নতুন ভারসাম্য ও আরএসএস-এর পরোক্ষ প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *