বক্স অফিসে টাকার বৃষ্টি নামাতে তৈরি বলিউড, জুনেই মুক্তি পাচ্ছে একগুচ্ছ হাই-ভোল্টেজ ছবি!

বক্স অফিসে টাকার বৃষ্টি নামাতে তৈরি বলিউড, জুনেই মুক্তি পাচ্ছে একগুচ্ছ হাই-ভোল্টেজ ছবি!

২০২৬ সালের জুন মাস ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জমজমাট সময় হতে চলেছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি মাসেই বক্স অফিসের ভাগ্য বদলে যেতে পারে। কমেডি, রোম্যান্স, পলিটিক্যাল থ্রিলার থেকে শুরু করে হরর—সব ধরনের স্বাদের মোট ৭টি বড় বাজেটের বহু প্রতীক্ষিত ছবি প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তোলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অক্ষয় কুমার, শাহিদ কাপুর, বরুণ ধাওয়ান এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জের মতো তারকাদের এই ছবিগুলো সিনেমা হলের ব্যবসায়িক খরা কাটিয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তারকাদের মেলা ও ভিন্ন ঘরানার ছবির দাপট

চলতি মাসের শুরুতেই অর্থাৎ ৫ জুন মুক্তি পাচ্ছে বরুণ ধাওয়ান ও ডেভিড ধাওয়ান জুটির কমার্শিয়াল এন্টারটেইনার ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’। মাস অডিয়েন্স বা সাধারণ দর্শকদের লক্ষ্য করে তৈরি এই ছবিতে পূজা হেগড়ে ও মৃণাল ঠাকুরকেও দেখা যাবে। এরপর ১২ জুন বক্স অফিসে এক বড়সড় লড়াই দেখা যাবে, কারণ একই দিনে তিনটি ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইমতিয়াজ আলির পরিচালনায় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত আবেগঘন পারিবারিক ছবি ‘ম্যায় বাপস আউঙ্গা’, মনোজ বাজপেয়ীর পলিটিক্যাল থ্রিলার ‘গভর্নর’ এবং বিক্রম ভাটের হাড়হিম করা হরর ছবি ‘হন্টেড থ্রিডি: একোজ অফ দ্য পাস্ট’।

মাসের শেষার্ধেও এই উন্মাদনা বজায় থাকবে। ১৯ জুন মুক্তি পেতে চলেছে ২০১২ সালের সুপারহিট ছবির সিক্যুয়েল ‘ককটেল ২’, যেখানে শাহিদ কাপুর, কৃতি শ্যানন এবং রশ্মিকা মন্দানার ত্রয়ী রসায়ন দেখা যাবে। তবে জুনের সবচেয়ে বড় বাজি ধরা হচ্ছে ২৬ জুন মুক্তি পেতে চলা মাল্টিস্টারার কমেডি-অ্যাকশন ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-কে। অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি ও পরেশ রাওয়াল সমৃদ্ধ এই ছবিটি রেকর্ড ব্যবসার স্বপ্ন দেখছে।

ব্যবসায়িক প্রভাব ও প্রেক্ষাগৃহের চাঙ্গা ভাব

একই মাসে এতগুলো বড় বাজেটের ছবি মুক্তির পেছনে রয়েছে সিনেমা হলগুলোতে দর্শক ফিরিয়ে আনার মরিয়া চেষ্টা। বিগত কয়েক প্রান্তিকে বক্স অফিসের ঝিমিয়ে পড়া ভাব কাটাতে এই সিনেমাগুলো বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। তবে একই দিনে একাধিক ছবি মুক্তি পাওয়ায় স্ক্রিন শেয়ারিং বা প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া নিয়ে হল মালিকদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তা সত্ত্বেও, এই সুস্থ প্রতিযোগিতা সামগ্রিকভাবে মাল্টিপ্লেক্স এবং একক পর্দার সিনেমা হলগুলোর ব্যবসায়িক মন্দা দূর করে চলচ্চিত্র বাজারে ব্যাপক পুঁজির সঞ্চালণ ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *