জাল সই কাণ্ডে সিআইডির সিট গঠন, বিধানসভায় পুলিশের হস্তক্ষেপ নিয়ে বিস্ফোরক পার্থ চট্টোপাধ্যায়

জাল সই কাণ্ডে সিআইডির সিট গঠন, বিধানসভায় পুলিশের হস্তক্ষেপ নিয়ে বিস্ফোরক পার্থ চট্টোপাধ্যায়

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মনোনয়নের জন্য তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট (SIT) গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই ধরনের হস্তক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলেও দাবি তাঁর।

বিধানসভার বিষয়ে পুলিশের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই ব্যাপারে পুলিশ কীভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে? এটাই আমার মূল প্রশ্ন। নতুন স্পিকারের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা নিয়মকানুন অনেক বেশি জানেন। তাহলে স্পিকার কী করবেন?” এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার উভয়ের উদ্দেশ্যেই বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিধানসভার ওপর পুলিশের এই ছড়ি ঘোরানোর পথটা কোনোভাবেই ঠিক নয়।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সিট গঠন

তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সই জাল করার এই গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে রাজ্যের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা সিআইডি (CID)। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে সিআইডি একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বা ডিআইজি (DIG)-র নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই মামলার সূত্র ধরেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল। তবে তিনি নিজে হাজিরা না দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এজেন্সিকে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

আইন নিজের পথে চলবে, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা পারদ ছুঁয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী আইন সম্পূর্ণ নিজের পথেই চলবে। যাঁরা এই সই জালিয়াতির ঘটনার সাথে যুক্ত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

যেভাবে দানা বাঁধল বিতর্ক

গত ৯ মে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিহ্ হুইপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০ মে ৭০ জন বিধায়কের সই সহ আরও একটি চিঠি পাঠানো হলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ তোলেন যে, দলীয় বৈঠকে এমন কোনও প্রস্তাব পাশই হয়নি। বিধায়কদের এই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই স্পিকারের হস্তক্ষেপে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তের ভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে সংসদীয় সার্বভৌমত্ব বনাম পুলিশি এক্তিয়ারের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *