ফিফা বিশ্বকাপের স্বত্ব পেয়ে শেয়ার বাজারে জির বাজিমাৎ, লগ্নিকারীদের পকেটে মোটা টাকা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব হাতে পেতেই শেয়ার বাজারে ঝড় তুলল জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড। সোমবার ভারতের বাজারে সেনসেক্স ও নিফটির পতনের মধ্যেও এই বিনোদনধর্মী মিডিয়া জায়ান্টের শেয়ারের দাম হু-হু করে বাড়তে দেখা যায়। ফলে দালাল স্ট্রিটের মন্দা আবহাওয়ার মাঝেই মোটা টাকা মুনাফা কামিয়ে নিয়েছেন এই সংস্থার লগ্নিকারীরা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকটা দিন বাজারে জি গ্রুপের শেয়ারের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে।
সোমবার জির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে, ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে সম্প্রচার করার এক্সক্লুসিভ স্বত্ব পেয়েছে তারা। রেকর্ড অঙ্কের বিনিময়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার (FIFA) কাছ থেকে এই মেগা টুর্নামেন্টের ব্রডকাস্টিং রাইটস কিনে নিয়েছে জি গ্রুপ। এই খবরটি বাজারে আসতেই লগ্নিকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কো ম্পা নির স্টকের ওপর।
এক দিনেই ব্যাপক বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্মীলাভ
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খবরটি প্রকাশের পর জি এন্টারটেইনমেন্টের শেয়ারের দাম ০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। লেনদেনের এক পর্যায়ে এই স্টকের দর পৌঁছে যায় ৯৯.৮০ টাকায়, যা সূচকের নিরিখে প্রায় ৭ শতাংশের লাফ। যদিও দিনের শেষে বাজার বন্ধ হওয়ার সময় শেয়ারটির মূল্য থিতু হয় ৯৩.৯৭ টাকায়। তবে শুধু এক দিনেই নয়, গত ৫ দিনের খতিয়ান বলছে যে এই স্টক থেকে লগ্নিকারীরা ইতিমধ্যে ১১.৬৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা তুলে নিয়েছেন। এমনকি গত এক মাসেও স্টকটির দাম বেড়েছে ৩.৪৭ শতাংশ।
খেলাধুলার বাজারে জির নতুন রণকৌশল
ভারতে লাইভ খেলা দেখার প্রতি দর্শকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং অপারেশনে বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলতে থাকা এই বিশ্বযুদ্ধের মেগা আসর সরাসরি সম্প্রচার করতে সম্পূর্ণ নতুন চারটি চ্যানেল আনছে তারা। চ্যানেলগুলি হলো— ইউনাইট৮ স্পোর্টস ১, ইউনাইট৮ স্পোর্টস ১ এইচডি, ইউনাইট৮ স্পোর্টস ২ এবং ইউনাইট৮ স্পোর্টস ২ এইচডি। অন্যদিকে ডিজিটাল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দর্শকদের জন্য ‘জি ৫’ (Zee5) অ্যাপে প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি লাইভ স্ট্রিম করা হবে। ফুটবল দুনিয়ার এই শ্রেষ্ঠ আসরকে পুঁজি করে ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যেই জি গ্রুপ এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের পথে হেঁটেছে।