বকেয়া ডিএ নিয়ে জটিলতা কাটছে, বাজেটে বড় ঘোষণার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্য সচিবালয়ে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
বাজেটে বড় ঘোষণা ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস
বৈঠক শেষে সংগ্রামী মঞ্চের প্রতিনিধিরা জানান, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক পাওনা ও অন্যান্য দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী ২২ জুন রাজ্যের নতুন বাজেট পেশ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সেই বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় কোনো ঘোষণা করা হবে, যা তাঁদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারে।
ডিএ-র পাশাপাশি রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় সুখবর এসেছে এই বৈঠক থেকে। সরকারি দফতরগুলোতে শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এদিনের বৈঠকে কেবল ডিএ বা নিয়োগ নয়, রাজ্য প্রশাসনের অন্দরের একাধিক সমস্যা নিয়েও সরব হন কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন সরকারি দফতরে চলা ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি এবং কর্মচারীদের ওপর ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকির রাজনীতির বিষয়টি তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনেন। মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের সঙ্গে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাবে। বিপুল পরিমাণ বকেয়া ডিএ মেটাতে গিয়ে রাজ্য কোষাগারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হলেও, ৫০ হাজার নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত রাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গতি আনবে। একইসঙ্গে থ্রেট কালচার বন্ধের আশ্বাস সরকারি দফতরগুলোতে কাজের পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে।