গল্ফগ্রিনে যুগলের রহস্যমৃত্যু, ফ্ল্যাটে চলত চরম মাদক ও অশ্লীল রিল তৈরির কারবার

গল্ফগ্রিনে যুগলের রহস্যমৃত্যু, ফ্ল্যাটে চলত চরম মাদক ও অশ্লীল রিল তৈরির কারবার

কলকাতার গল্ফগ্রিনে যুগলের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রবিবার ফ্ল্যাট থেকে মহম্মদ দিলশাদ ও তাঁর বান্ধবী মেহুলি সান্যালের মৃতদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, সেখানে নিয়মিত বসত ‘হাউস পার্টি’ ও মাদকের আসর। শুধু তাই নয়, ওই ফ্ল্যাটে মোটা টাকার বিনিময়ে তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত ছিল এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভিডিও ও রিল তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মুস্তাক আলি মোল্লা, অঞ্জলি বাঙ্গিরো এবং চন্দন পাশোয়ান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অতিরিক্ত মাদকের জের ও মৃত্যুর কারণ

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মূলত অতিরিক্ত পরিমাণ মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণের ফলেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে মেহুলির মৃত্যু হয় এবং তার কিছু পরে মারা যান দিলশাদ। মেহুলির মাথায় একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও চিকিৎসকদের অনুমান, অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে যাওয়ার কারণেই এই চোট লেগেছিল। ফ্ল্যাটটি থেকে ঠিক কী ধরনের ক্ষতিকারক মাদক ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

প্যাকেজ সিস্টেমে চলত ফ্ল্যাটের ব্যবসা

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, মৃত দিলশাদ ওই ফ্ল্যাটটি মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতেন। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রেভ পার্টি ও হাউস পার্টির সঙ্গে যুক্ত তরুণ-তরুণীরা এখানে এসে এক বা দু’দিন সময় কাটাতেন। এর বিনিময়ে দিলশাদকে মোটা অঙ্কের টাকা ‘প্যাকেজ’ হিসেবে দিতে হতো। গ্রেপ্তার হওয়া মুস্তাক ও মেহুলির পূর্বপরিচিত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই মহানগরের বুকে এই ধরনের বেআইনি নেশার জাল বিস্তার করেছিল বলে মনে করছে পুলিশ। এই চক্রের পেছনে আর কোনো বড় মাথা কাজ করছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *