ময়লার গাড়ি বেচে টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মাঝেই বাদুড়িয়ার পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হলো এক পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ। মৃত জাহিদুল হক বৈদ্যর বিরুদ্ধে সরকারি সামগ্রী বেচে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মঙ্গলবার সকালে তাঁর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তদন্তের মাঝেই রহস্যমৃত্যু
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর একটি অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লার গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গত ৩১ মে জাহিদুল হকের বাড়ির সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। প্রধানের গ্রেফতারি ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে তাঁরা বাদুড়িয়া থানার দ্বারস্থও হন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে প্রধানের বাড়িতে গেলেও ঘটনার সময় তাঁর দেখা মেলেনি। এর পরেই মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দুর্নীতির চাপ নাকি ঋণের বোঝা
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আত্মহত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছেন, জাহিদুল হকের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল ঋণের বোঝা ছিল। বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। একদিকে দুর্নীতির দায়ে পুলিশের তদন্ত ও গণবিক্ষোভের চাপ, অন্যদিকে আর্থিক দেনা— এই দুইয়ের জেরেই তিনি চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।