হরমুজ সংকটের মাঝেই ওমানের সঙ্গে সেপা চুক্তি কার্যকর ভারতের, খুলছে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বর্তমানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। অশোধিত তেলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। ভূ-রাজনৈতিক এই চরম উত্তেজনার আবহেই ওমানের সঙ্গে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ বা ‘সেপা’ (CEPA) বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করল ভারত। গত বছর ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওমান সফরের সময়ে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সই হয়েছিল, যা সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
বিকল্প পথের সন্ধান ও কৌশলগত সুবিধা
চলতি হরমুজ সংকটের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য যখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি ভারতের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওমানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মসৃণ হওয়ায় এখন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথে বহু পণ্যের লেনদেন করা সম্ভব হবে। আরব সাগর ঘেঁষা ওমান উপকূল বরাবর ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজ চলাচল শুরু করেছে এবং ভারতেরও কিছু জাহাজ এই নিরাপদ পথটি ব্যবহার করছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে ভারত এখন এই বিকল্প সমুদ্রপথের সুবিধা আরও ব্যাপকভাবে লাভ করবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে বড় ভূমিকা নেবে।
ভারতীয় পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও কর্মসংস্থান
এই চুক্তির ফলে ওমানের বাজারে ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের উপর আর কোনও শুল্ক বা কর লাগবে না। বিশেষ করে টেক্সটাইল, সোনাদানা, চামড়ার জুতো, ওষুধ, প্লাস্টিক এবং অটোমোবাইলের মতো শ্রমনিবিড় শিল্পগুলি এই শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আসছে। আগে ওমানের বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর চড়া কর দিতে হলেও, এখন তা শূন্য হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা এবং জনপ্রিয়তা দুই-ই বৃদ্ধি পাবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনবে। দেশের ছোট ও মাঝারি শিল্প, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং কারিগরদের তৈরি পণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
অন্যদিকে, ওমানও ভারতের বাজারে বড় ধরনের শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাবে। বিশেষ করে ওমান থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, রান্নার গ্যাস (এলএনজি) এবং সারের ওপর ভারত সরকার কর সম্পূর্ণ তুলে দেবে অথবা অনেকটাই কমিয়ে দেবে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।