পহেলগাম হানায় এবার হামাস যোগের গন্ধ, এনআইএ-র চার্জশিটে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সাংঘাতিক তথ্য

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হওয়া নৃশংস জঙ্গিহানার তদন্তে এবার এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। এই হামলার নেপথ্যে কেবল পাকিস্তানের ছক নয়, বরং সুদূর গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হামাস’-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের পরিধি আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এনআইএ-র জমা দেওয়া সাম্প্রতিক চার্জশিটে হামাস-যোগের এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় পর্যটকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় স্থানীয় এক বাসিন্দা-সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
হামলার নেপথ্যে রণকৌশল ও আন্তর্জাতিক বৈঠক
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, পহেলগামে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, তার রণকৌশল ও ধাঁচের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধপদ্ধতির অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। হামলার পরই নিখুঁত ও অতর্কিত আক্রমণের এই কৌশল দেখে গোয়েন্দাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। এমনকি সেই সময় ইজরায়েলের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল, এই জঙ্গিহানার সঙ্গে তারা হামাসের মিল খুঁজে পাচ্ছে। এই সন্দেহের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক সূত্র। পহেলগাম কাণ্ডের ঠিক পরপরই পাকিস্তানের মাটিতে হামাসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে দেখা গিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি ওঠে। এছাড়া সম্প্রতি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ-তইবার একটি অনুষ্ঠানে হামাসের শীর্ষ নেতা নাজি জাহিরের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেয়। এর থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ দৃঢ় হয় যে, পাক জঙ্গি সংগঠন লশকর এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর সঙ্গে হামাসের কোনো গোপন আঁতাত তৈরি হয়েছে।
মোবাইল ফোনের সূত্র ও করাচির ব্যাঙ্ক কানেকশন
পহেলগাম ঘটনার পর জঙ্গিদের দমনে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন মহাদেব’ শুরু করেছিল। এই অভিযানে একাধিক জঙ্গি খতম হওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া দু’টি মোবাইল ফোন এই আন্তর্জাতিক রহস্যের জট খুলতে বড় সাহায্য করেছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলির মধ্যে একটি কেনা হয়েছিল পাকিস্তানের করাচির একটি নামী ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে। তদন্তে প্রকাশ, অতীতেও একাধিক জঙ্গিহানার আর্থিক জোগানের তদন্তে করাচির এই নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কটির নাম জড়িয়েছে। পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-এ-তইবার জন্য তহবিল মজুত রাখা এবং লেনদেনে সাহায্য করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে। শুধু লস্করই নয়, আল-কায়েদার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কুয়েতের জঙ্গি সংগঠন ‘লাজনত-আল-দাওয়া’-র সঙ্গেও এই করাচির ব্যাঙ্কের গোপন লেনদেন ছিল বলে পূর্ববর্তী তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে। ফলে পহেলগাম হামলার এই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ও হামাস যোগের বিষয়টি ভূস্বর্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।