তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ‘ডিম-বৃষ্টি’, রক্তাক্ত রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

কাটোয়ায় তৃণমূল নেতার ওপর জনরোষের বিস্ফোরণ, সরকারি ত্রিপল পাচার ঘিরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি
বিধানসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষের যে ধারা অব্যাহত রয়েছে, সেই উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ওপর। মঙ্গলবার কাটোয়া শহরে সরকারি ত্রিপল পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ওই প্রবীণ নেতাকে।
ত্রিপল পাচার ঘিরে জনরোষ
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার দুপুরে, যখন কাটোয়া স্টেশন বাজার সংলগ্ন একটি গোডাউন থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রীর ত্রিপল গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে দেখামাত্রই জনতা চোর স্লোগান তুলে ঘিরে ধরে এবং তাঁর ওপর ডিম ছুঁড়ে মারে। বিক্ষোভ এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে, প্রাক্তন বিধায়কের তিন সহযোগীও মারধরের শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, সন্দীপ ঘোষ নামে এক কর্মীকে কার্যালয়ের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয় এবং কালী চট্টরাজ নামে আরও একজনকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়।
রাজনৈতিক তরজা ও বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে উদ্ধার করে কাটোয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় বর্তমানে তিনি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতেই পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, সরকারি সম্পদ চুরির বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। কাটোয়ায় সরকারি ত্রাণসামগ্রী নয়ছয় করার অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভ আগামী দিনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।