বাংলার রাজনীতিতে হঠাৎ প্রশান্ত কিশোরের এন্ট্রি! বহিষ্কৃত নেতার সাথে কেন কথা বললেন পিকে?

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ আর প্রশান্ত কিশোরের রহস্যময় ফোনকল
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে নয়া মোড়। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক বৈঠকে এই দুই নেতার নাম উঠে আসার পর তৃণমূলের এই কঠোর পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রহস্যময় ফোনকল ও নেপথ্যের সমীকরণ
এই বহিষ্কারের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশের প্রখ্যাত নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশোর সরাসরি ফোন করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই ফোনকলের খবর চাউর হতেই কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ তুঙ্গে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা ঋতব্রত কেন হঠাৎ রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন, তা জানতেই প্রশান্ত কিশোর তাঁর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। দল ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং বিদ্রোহের আসল উৎস খুঁজে বের করাই ছিল এই কথোপকথনের মূল উদ্দেশ্য।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব
একদা তৃণমূলের প্রধান নির্বাচনী কৌশলীর হঠাৎ এই সক্রিয়তা নতুন রাজনৈতিক সংকেত দিচ্ছে। বহিষ্কৃত নেতাদের সাথে প্রশান্ত কিশোরের এই যোগাযোগ দলের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা কি কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা, নাকি তৃণমূলের ভাঙন রোধে প্রশান্ত কিশোরের বিশেষ কোনো কৌশল? এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।