মমতার ধর্নায় খালি চেয়ার, তৃণমূলের চরম দুর্দিন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ধর্মতলায় দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গলবারের ধর্না মঞ্চকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলের বিধায়ক ও সাংসদদের অনুপস্থিতি এবং ফাঁকা চেয়ারের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, একের পর এক দুর্নীতি এবং অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জেরে দলটির এখন চরম দুর্দিন চলছে।
শুভেন্দুর ধারালো আক্রমণ এবং ফলতা উপমা
তৃণমূলের এই ধর্না কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, যে দলের বিধানসভায় এতজন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ নেত্রীর কর্মসূচিতে ১০ জন বিধায়ককেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। মঞ্চের সামনে উপস্থিতির চেয়ে সাংবাদিকদের সংখ্যাই ছিল বেশি। দলটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ফলতার সঙ্গে তুলনা করে তিনি উল্লেখ করেন, গুটি কয়েক লোক নিয়ে আয়োজিত এই ধর্না প্রমাণ করে যে তৃণমূলের অবস্থা এখন কতটা শোচনীয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক শিবিরের এই কোণঠাসা অবস্থার সুযোগ নিয়ে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে।
নেত্রীর নিশানায় ‘গদ্দার’ এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পাল্টা জবাবে ধর্না মঞ্চ থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র বা ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতো হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত সতীর্থকে পাশে নিয়ে তিনি দলত্যাগীদের তীব্র নিশানা করেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যারা দলের টিকিট নিয়ে এতদিন ক্ষমতা ভোগ করেছেন, তারাই আজ পরাজয়ের ভয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করছেন। তবে এই বেনোজল ও সুবিধাবাদীরা চলে যাওয়ায় দল আরও পরিশুদ্ধ হবে এবং নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে রাজ্যের আইনসভা এবং মাঠের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।