মোদী কি দেশে জরুরি অবস্থা চাপাতে চলেছেন, রাহুলের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি

দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি অদূর ভবিষ্যতে দেশে জরুরি অবস্থার মতো কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গোটা ব্যবস্থার ওপর থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলবেন।
অর্থনৈতিক সুনামি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহের আশঙ্কা
রাহুল গান্ধী বর্তমান পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাতে গিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতের দিকে একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সুনামি ধেয়ে আসছে, যা প্রতিহত করার ক্ষমতা কারও নেই। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতা মোকাবিলায় ভারতের যে ‘শক অ্যাবজরবার’ বা অর্থনৈতিক রক্ষাকবচগুলো ছিল, বিজেপি সরকার তা একে একে ধ্বংস করে ফেলেছে। এর ফলে দেশ এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
একই সাথে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরেই এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ দানা বাঁধছে। আপাতদৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশন বা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সম্পূর্ণ সরকার-নিয়ন্ত্রিত মনে হলেও, আসলে ভেতরের চিত্রটা ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে গোয়েন্দা ব্যবস্থার প্রধান ও শীর্ষ সদস্যরা বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এবং তাঁদের গোপন বার্তা নিয়মিত তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেস নেতার এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। অতীতে ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান মোদী জমানায় লিখিত কোনো ঘোষণা না থাকলেও অঘোষিত জরুরি অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর রয়েছে। রাহুল গান্ধীর এই নতুন দাবি সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল। বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার বিরোধী দলনেতার এমন মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে জনমনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তবে বিজেপি ও আরএসএস-কে আদিবাসী বিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শাসকদলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার কৌশল নিয়েছেন।