তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ফাটলের রাতেই বিস্ফোরক বাবুল, কাঠগড়ায় মমতার ‘নরম মনোভাব’

তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলে ভাঙনের আবহেই সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দীর্ঘ পোস্ট করলেন দলীয় রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বুধবার গভীর রাতে করা এই পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত কিছু পদক্ষেপের প্রকাশ্য সমালোচনা করার পাশাপাশি দলত্যাগী নেতাদের নৈতিকতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে যখন ভাঙনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই বাবুলের এই মন্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
দলীয় নেত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং দুর্নীতি প্রসঙ্গ
নিজের পোস্টে বাবুল সরাসরি দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ করেননি। তাঁর মতে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিন থেকেই যারা জনসাধারণের অর্থ তছরুপ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল দিদির। এই ‘নরম মনোভাবের’ কারণেই দলের একাংশের নেতারা অন্যায়ের সুযোগ পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এর পাশাপাশি, দলে একসময় ছদ্মবেশে থাকা এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করে তাঁকে ‘মানুষের ছদ্মবেশে সাপ’ বলেও কটাক্ষ করেন সাংসদ, যা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
দলত্যাগীদের নীতিশিক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাব
পরিষদীয় দলে ভাঙনের প্রেক্ষিতে দলত্যাগীদের কড়া বার্তা দিয়ে বাবুল লিখেছেন, কোনো দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জেতার পর দল ছাড়লে নৈতিকভাবে বিধায়ক বা সাংসদ পদও ছেড়ে দেওয়া উচিত। অতীতে বিজেপি ছাড়ার সময় তিনি নিজেও যে সাংসদপদ ত্যাগ করেছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে ভিন রাজ্য থেকে দল ভাঙিয়ে নেতা নেওয়ার প্রসঙ্গে বিজেপিকেও একপ্রকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাবুল। এই পোস্টটিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত বলে দাবি করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসক দলের একজন বর্তমান সাংসদের মুখে নেত্রীর ভুলের খতিয়ান এবং দলের অভ্যন্তরের ক্ষোভ প্রকাশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে আগামী দিনে দলের অন্দরে সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে।