ভারতের ওপর ফের মার্কিন শুল্কের খাঁড়া, পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে দিল্লির বাণিজ্য মন্ত্রক

ভারতের ওপর ফের মার্কিন শুল্কের খাঁড়া, পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে দিল্লির বাণিজ্য মন্ত্রক

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেই ভারতের ওপর ফের ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে ভারত ভালোভাবে না নিলেও, নয়াদিল্লি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার পথ খুঁজছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে এবং এই শুল্কের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর তাদের আইনের ৩০১ ধারাকে হাতিয়ার করে ভারত, চিন, জাপান, ব্রিটেন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের মোট ৬০টি দেশের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, যে সমস্ত দেশ জোরপূর্বক শ্রমের বিনিময়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে বা এই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের পণ্য আমদানির ওপরেই এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী, আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ এবং কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা দেশগুলোর ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রকের তৎপরতা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

মার্কিন এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ৩০১ ধারা কার্যকর করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরন্তর আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। ভারতীয় কূটনীতিবিদদের তৎপরতায় ধারা ২৩২-এর আওতায় থাকা বেশ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যকে ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার বাইরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক আলোচনার স্তরে রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসন জনমত ও পর্যালোচনার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ভারতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যখন এমনিতেই বিপর্যস্ত, তখন আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সহযোগী হওয়ায় ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বস্ত্র, অলঙ্কার, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভারত সরকার যেভাবে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তাতে চূড়ান্ত শুল্ক আরোপের আগেই একটি মধ্যস্থতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *