গতি ও সুরক্ষার মেলবন্ধন, কেন হাইওয়ের পথনির্দেশক বোর্ড সবসময় সবুজই হয়

দীর্ঘ রোডট্রিপে হাইওয়ে ধরে গাড়ি ছুটিয়ে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। এই যাত্রাপথে চালকদের সবচেয়ে বড় ভরসা রাস্তার ধারে থাকা দিকনির্দেশক বা সাইনবোর্ড। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, ভারতের প্রতিটি রাজপথসহ বিশ্বের বহু দেশের হাইওয়ের সাইনবোর্ডগুলো মূলত উজ্জ্বল সবুজ রঙের হয় এবং তার ওপর সাদা কালিতে পথনির্দেশ লেখা থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ কারণেই এই নির্দিষ্ট রঙের ব্যবহার করা হয়।
দ্রুত গতিতে চাক্ষুষ স্পষ্টতা ও মানসিক প্রশান্তি
হাইওয়েতে সাধারণত যানবাহনগুলো অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলাচল করে। তীব্র গতিতে চলার সময় চালকদের পক্ষে দীর্ঘ সময় নিয়ে কোনো সাইনবোর্ড পড়া সম্ভব হয় না। সবুজ রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড দূর থেকেই চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করে, যার ফলে চলন্ত গাড়ি থেকেই এক পলকে গন্তব্যের দূরত্ব ও দিক চটজলদি পড়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
এর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে গাড়ি চালানোর ফলে চালকের চোখে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করতে সবুজ রঙ ভূমিকা রাখে। এই নির্দিষ্ট উজ্জ্বল সবুজ রঙটি চোখের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক ও শীতল। এটি দীর্ঘ যাত্রায় চালকের মানসিক অস্থিরতা ও চোখের ক্লান্তি কমিয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
রঙ বিভাজনের বৈশ্বিক নিয়ম ও নিরাপত্তা
সবুজ রঙের সাইনবোর্ড ব্যবহারের আরেকটি বড় কারণ হলো একরূপতা। ভারতের পাশাপাশি আমেরিকা, কানাডা, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই নিয়ম মেনে সবুজে-সাদায় পথনির্দেশ লেখা হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদেরও পথ চিনতে কোনো অসুবিধা হয় না। হাইওয়ের পাশে থাকা এই সবুজ বোর্ডগুলো চালকদের আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে যে সামনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা দূরত্বের তথ্য রয়েছে।
তবে সুরক্ষার স্বার্থে তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী হাইওয়েতে রঙের বদলও ঘটে। যেমন— গতিসীমা বা গাড়ি থামানোর নির্দেশের মতো অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা দিতে ব্যবহার করা হয় লাল রঙ। আবার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়া বা বিপজ্জনক বাঁকের মতো তাত্ক্ষণিক সতর্কতার ক্ষেত্রে হলুদ বা কালো রঙের বোর্ড ব্যবহার করা হয়। মূলত হাইওয়েতে দুর্ঘটনা এড়াতে এবং চালকদের নিখুঁত পথনির্দেশ দিতেই এই রঙ বিন্যাস বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।