বিধানসভার পর এবার সংসদে ভাঙন, আগামী সপ্তাহেই বড় ধাক্কার মুখে তৃণমূলের সংসদীয় দল!

রাজ্য বিধানসভায় নজিরবিহীন ভাঙনের পর এবার দিল্লির বুকেও বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার পরিষদীয় দলের রেশ ধরে এবার দলের সংসদীয় কমিটিতেও ব্যাপক ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আগামী সপ্তাহেই লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সংসদীয় দলে ‘অপারেশন লোটাস’ সফল হতে চলেছে। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ইতিমধ্যেই ১২ জন সাংসদের দল ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে দলত্যাগী এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছেন আরও বেশ কয়েকজন, যার মধ্যে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ৩ থেকে ৪ জন হেভিওয়েট নেতাও রয়েছেন।
আইনি সুরক্ষায় দুই-তৃতীয়াংশের রণকৌশল
দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে সুনির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ দল ভেঙে বেরিয়ে এসে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করেছে এবং প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছে। সংসদেও ঠিক একই মডেল অনুসরণের প্রস্তুতি চলছে।
আইনি জটিলতা ও সাংসদ পদ খারিজের হাত থেকে বাঁচতে অন্তত ১৮ থেকে ১৯ জন সাংসদের একযোগে দল ছাড়া প্রয়োজন। প্রথম দফায় ১২ জনের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর, বর্তমানে আরও অন্তত ৬ জন সাংসদ এই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছেন। ফলে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেই আগামী সপ্তাহে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষার স্বার্থে বিদ্রোহী এই ‘ব্লক’ এখনই সমস্ত সাংসদের নাম জনসমক্ষে আনছে না।
তৃণমূলের অন্দরে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ভাঙন কেবল লোকসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং আগামী দিনে রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যেও এই অপারেশনের প্রভাব পড়তে চলেছে। বিধানসভার পর সংসদেও যদি দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ দল ত্যাগ করেন, তবে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান ও গুরুত্ব মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, বাদল অধিবেশনের ঠিক মুখে এই ধরনের ভাঙন দিল্লির বুকে শাসক শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং তৃণমূলের সংসদীয় কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করে দেবে।