গেট খুললেই জুতোর বাড়ি, চাকরি দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণায় উত্তপ্ত দুর্গাপুর

রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলক সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল দুর্গাপুরের অন্ডাল থানার উখড়া এলাকা। প্রতারিত অর্থ ফেরতের দাবিতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে জুতো হাতে বিক্ষোভ ও ধরনায় শামিল হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। অভিযুক্ত নেতার বাড়ির দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গেটের সামনে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন আন্দোলনকারীরা।
অভিযোগের তির উখড়া পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা তথা খান্দরা এলাকার পরিচিত তৃণমূল নেতা অমর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। তাঁর ভাই সমীর ভট্টাচার্য ওই এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অমরবাবু বহু যুবকের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছিলেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও চাকরি না মেলায় এবং টাকা ফেরত চাইলে উল্টে অপমানিত হতে হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়ির সামনে গণবিক্ষোভ শুরু হয়।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতারণার জাল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জন করতে অমর ভট্টাচার্য তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পারিবারিক পরিচিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, কেউ ছেলের আবার কেউ ভাইয়ের চাকরির আশায় জমি বা সর্বস্ব বন্ধক রেখে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন এই নেতার হাতে। বিক্ষোভকারী ঝর্না রায় অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের চাকরির জন্য অমরবাবু ১২ লক্ষ টাকা নেন, যার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকাই জমা পড়েছিল নেতার ভাইপো জিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অন্ডাল থানার উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ জিৎ ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। মূল অভিযুক্ত অমর ভট্টাচার্য বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
শাসক দলের স্থানীয় নেতার পরিবার এভাবে সরাসরি কোটি কোটি টাকার চাকরি-প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ইসিএল-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে চলা এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।