INDIA জোটে বিরাট ফাটল, লোকসভাতেও কংগ্রেসের পাশে বসতে নারাজ ডিএমকে

জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে ইন্ডিয়া (INDIA) জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে। দলের মুখপাত্র টি কে এস এলানগোভান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডিএমকে আর এই ব্লকের অংশ নয়। শুধু জোট ত্যাগ করাই নয়, লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদদের পাশে বসতেও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ডিএমকে সাংসদরা। তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুথুভেল করুণানিধি স্ট্যালিনের দল।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জোট ভাঙার কারণ
এই আকস্মিক ভাঙনের নেপথ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন ও সরকার গঠন কেন্দ্রিক তীব্র বিরোধ। রাজ্যে ডিএমকের দীর্ঘদিনের পুরনো সঙ্গী কংগ্রেস সম্প্রতি সম্পর্ক ছিন্ন করে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। বাম ও কংগ্রেসের সমর্থনে তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসেছেন বিজয়। নতুন এই সরকারে কংগ্রেস দুটি মন্ত্রিত্বও পেয়েছে। কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে ‘বেইমানি’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন ডিএমকে নেতৃত্ব। দলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের ক্ষোভ এবং আবেগকে প্রধান্য দিয়েই আগামী ৮ জুনের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক বয়কটসহ জোট ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লোকসভায় আসন বদল ও দূরত্বের রাজনীতি
জোট ভাঙার এই রেশ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল দেশের সংসদেও। লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদদের থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখতে স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি করুণানিধি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে তাঁদের আসন যেন কংগ্রেসের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, এই আর্জি জানানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, লোকসভা সচিবালয় ডিএমকে-র সেই দাবি মঞ্জুর করেছে এবং নতুন আসন বিন্যাসের প্রস্তুতি চলছে।
জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
ডিএমকে স্পষ্ট করেছে যে, ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই এবং নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে তারা বাকি বিরোধীদের সঙ্গে একযোগেই সরব হবে। তবে লোকসভায় অন্যতম প্রধান শক্তি ডিএমকে বেরিয়ে যাওয়ায় জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী জোটের ভিত অনেকটাই দুর্বল হলো। তামিলনাড়ুর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে ২৮টি আসনে লড়ে ৫টিতে জিতেছিল। এখন সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাওয়ায় আগামী দিনে সংসদের অন্দরে ও বাইরে বিরোধী ঐক্যের রাশ অনেকটাই আলগা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।