হস্টেলের শৌচালয়ে শিশুকন্যার রহস্যমৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র চাঞ্চল্য

নদিয়ার কৃষ্ণনগর কুইন্স বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীর নাম সঞ্জনা মণ্ডল। হস্টেলের শৌচালয় থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধারের পর পরই গোটা বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগরের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ ও সন্দেহের তীর
ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে মৃত ছাত্রীর পরিবার। নিহতের বাবা অনিমেষ কুমারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। তিনি জানান, শিশুটির একটি হাত অনেকটা কাটা অবস্থায় ছিল, যা স্বাভাবিক পতনের ফলে ঘটা কোনো দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। পরিবারের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার পরেও পুলিশি নির্দেশের দোহাই দিয়ে তাদের মেয়ের দেহ দেখতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শৌচালয়ে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হলেও, স্বজনদের দাবি এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডেরই ইঙ্গিত বহন করছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও তদন্তের ভবিষ্যৎ
ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নারাজ। পুলিশি তদন্তের দোহাই দিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ফলে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হস্টেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কি কোনো অপরাধমূলক যোগসাজশ রয়েছে, নাকি এটি কেবলই দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ এ ঘটনাকে গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে। এই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বজায় থাকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।