বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র তিন মাস পরেই বাদ সূর্যকুমার, ভারতের টি-২০ দলের নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার

ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেওয়ার মাত্র তিন মাস পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের সাক্ষী থাকল ভারতীয় ক্রিকেট মহল। অধিনায়কত্ব হারানোর পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড থেকেই পুরোপুরি বাদ পড়েছেন তারকা ব্যাটার সূর্যকুমার যাদব। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার আসন্ন দুই সফরের দল ঘোষণার সময় এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে ভারতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ও নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই রদবদল করা হয়েছে। সূর্যকুমারের পরিবর্তে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের হাতে।
নেতৃত্ব ও দল থেকে সূর্যকুমারের বাদ পড়ার কারণ
বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে সরিয়ে দেওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত সূর্যকুমারের সাম্প্রতিক অফ-ফর্ম এবং নির্বাচকদের দূরদর্শী পরিকল্পনা কাজ করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেও টুর্নামেন্টে সূর্যকুমারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স তাঁর নামের অনুরূপ ছিল না; নয় ইনিংসে মাত্র ২৪২ রান করেছিলেন তিনি। এরপর ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলেও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ১৩ ইনিংসে মাত্র ২০.৭৬ গড়ে ২৭০ রান করে ব্যর্থতার পরিচয় দেন এই বিধ্বংসী ব্যাটার। প্রধান নির্বাচক স্পষ্ট করেছেন যে, পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চক্রের জন্য আগামী দুই বছরের পরিকল্পনা সাজাতে এবং দলের অগ্রগতির স্বার্থেই এই কঠিন কিন্তু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
অধিনায়ক হিসেবে কেন শ্রেয়স আইয়ারের ওপর ভরসা
২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ না খেললেও ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে শ্রেয়স আইয়ারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতাই তাঁকে নির্বাচকদের প্রথম পছন্দে পরিণত করেছে। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি দিল্লি ও পাঞ্জাবের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও ফাইনালে তোলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ব্যাট হাতেও তিনি বিগত দুই আইপিএল মরসুমে যথাক্রমে ৬০৪ ও ৪৯৮ রান করে নিজের বিধ্বংসী ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। নির্বাচকদের মতে, শ্রেয়সের এই নেতৃত্ব দেওয়ার পরিণত বোধ এবং চমৎকার ব্যাটিং পারফরম্যান্স আগামী দিনে ভারতীয় দলকে সঠিক দিশা দেখাবে, যার ফলে সূর্যকুমার জমানার আকস্মিক অবসান ঘটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ভারতীয় ক্রিকেটে।