মমতার পাশে থেকেও দলের ভুল নিয়ে সরব কুণাল ঘোষ, সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলেন কড়া বার্তা
June 6, 20269:14 pm

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন ভাঙন ও অস্থিরতা চরমে, তখন দলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষের এই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য এবং দলের বর্তমান কার্যপদ্ধতি নিয়ে তাঁর অবস্থান তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সরাসরি ব্যক্ত করেছেন।
কুণাল ঘোষের বার্তার মূল দিকগুলো:
- আনুগত্যের ঘোষণা: কুণাল ঘোষ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। তিনি দলনেত্রীর পাশে আছেন এবং যারা নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই ব্যক্তিগত স্বার্থে বা প্রতিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় মমতার সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন, তিনি তাদের সমর্থন করেন না।
- ভুল সংশোধনে কড়াকড়ি: তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি জানিয়েছেন, দল যদি ভুল সংশোধনের পথে না হেঁটে পুনরায় সেই একই ভুল করতে থাকে, তবে তিনি তা দেখে ‘চোখ বন্ধ করে’ থাকতে পারবেন না।
- নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত: বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছাত্র ও যুব নেতাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুণাল। তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা বলেছেন এবং দলের অন্দরের ক্ষোভগুলো শুনছেন বলে স্পষ্ট করেছেন।
- নিজের স্বাধীনতা: কুণাল ঘোষ বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি মমতার সঙ্গে থাকলেও দলের ভেতরের বা বাইরের ভুলগুলো নিয়ে তিনি চুপ থাকবেন না। তিনি তাঁর ‘চোখ, কান, মাথা, হৃদয় ও কণ্ঠ’ ব্যবহার করা চালিয়ে যাবেন, অর্থাৎ দলের ভেতরে থেকেও গঠনমূলক সমালোচনা বা প্রতিবাদের রাস্তা তিনি খোলা রাখছেন।
বিশ্লেষণ:
তৃণমূলের অন্দরে যখন বিধায়কদের দলত্যাগ বা বিরোধী শিবিরে যোগদানের হিড়িক চলছে, তখন কুণাল ঘোষের এই বার্তা কিছুটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অবিচল আস্থা, অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক দুর্নীতি বা ভুল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান—এই দুইয়ের সমন্বয়ে কুণাল ঘোষ তৃণমূলের বিদ্রোহী ও অনুগতদের মাঝে এক ধরণের ‘মডারেটর’ বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।