কার ভাগ্যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩ হাজার টাকা আসবে? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের মহিলাদের জন্য সুখবর। আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা ঢুকতে শুরু করবে। নবান্নের সভাঘর থেকে এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ঠিক কারা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং কারা বাদ পড়বেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটল।
ভুয়ো নাম ছাঁটাই ও কড়া ভেরিফিকেশন
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় লক্ষ লক্ষ ভুয়ো আবেদনকারীর হদিশ মেলায় প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে ‘ডুপ্লিকেট’ নামগুলি সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ভুয়ো নামের ভিড় এড়াতেই নতুন করে ফর্ম পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ তারিখ থেকে অফলাইনে এবং বুধবার থেকে অনলাইনে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে প্রশাসন। প্রশাসন জানিয়েছে, ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্ম মূলত ভবিষ্যতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ডেটাবেস তৈরির জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী তিন মাস ধরে এই যাচাই পর্ব চলবে এবং আবেদনপত্র যাচাই করে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হবে।
টাকা পাওয়ার শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা পাওয়ার সবচেয়ে বড় ও বাধ্যতামূলক শর্ত হলো ভারতীয় নাগরিকত্ব। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, মোট ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন প্রকৃত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকবে। এসআইআর রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, বহু আবেদনকারী এ দেশের আদপে বাসিন্দাই নন। তাই সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি বা বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা মানুষজন এই সুবিধা পেলেও, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা কোনোভাবেই এই টাকা পাবেন না। সরকারের এই কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত দুঃস্থ মহিলারা আর্থিক সহায়তার সুফল পাবেন, অন্যদিকে ভুয়ো উপভোক্তা বাদ পড়ায় সরকারি তহবিলের বিপুল অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।