নিট দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল দিল্লি! শাসকের অস্বস্তি বাড়িয়ে নতুন আন্দোলনের ডাক আরশোলা বাহিনীর

নিট দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল দিল্লি! শাসকের অস্বস্তি বাড়িয়ে নতুন আন্দোলনের ডাক আরশোলা বাহিনীর

নিট কেলেঙ্কারি ও দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার যে জনসমাগম দেখা গেল, তা কেন্দ্রীয় সরকারের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) যেভাবে রাজপথে নেমেছে, তা রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। সরকার এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।

কেন ফুঁসছে তরুণ প্রজন্ম?

আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে চরম অনিয়ম ও হতাশা গ্রাস করেছে, তারই প্রতিফলন এই প্রতিবাদ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে অধিকাংশেরই অতীতে কোনো রাজনৈতিক বা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার রেকর্ড নেই। প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে তাদের এই অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দিচ্ছে, সাধারণ তরুণ সমাজের মধ্যে ক্ষোভ কতটা গভীর। অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, নিছক দাবি আদায়ের লড়াই নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তারা পথে নেমেছেন। তাদের মতে, চুপ করে থাকার সময় শেষ, এখন পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার সময়।

পাল্টা হুঙ্কারে শাসক শিবির

এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের নেতা নীতীন নবীন এই আন্দোলনকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে একে বিদেশি প্ররোচনা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, ভারতের যুবসমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করা বা তাদের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা সফল হবে না। তিনি বরং সরকারের উন্নয়ন ও স্টার্টআপ সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে স্থিতিশীলতার পক্ষে সওয়াল করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সাত দিনের এই সময়সীমার মধ্যে সরকার কোনো নমনীয়তা দেখায় কি না, নাকি এই আন্দোলনের পথ ধরে দেশের বুকে বড় কোনো অস্থিরতার সূত্রপাত হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *