পুরবোর্ডে ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ! বড়সড় তদন্তের হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রা পালের

তদন্তের মুখে কলকাতা ও বিধাননগর পুরবোর্ড, কড়া হুঙ্কার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই কলকাতা ও বিধাননগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার মেয়রদের পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পর কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের আচমকা ইস্তফা প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কলকাতা ও বিধাননগরসহ একাধিক পুরসভার বিরুদ্ধে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হবে। মন্ত্রীর দাবি, বর্ষার মুখে পরিকল্পিতভাবে মেয়রদের পদত্যাগ করিয়ে নতুন সরকারকে বিপাকে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতা ও বিধাননগরের পুরবোর্ডের কর্মকাণ্ড নিয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে সদুত্তর না পাওয়া যায়, তবে দ্রুত প্রশাসক বসানো হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে কলকাতা পুরসভায় চলা বিভিন্ন অনিয়ম, জলাশয় ভরাট এবং উন্নয়নের নামে হওয়া দুর্নীতির প্রতিটি বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডগুলি কাজের চেয়ে অনিয়মেই বেশি মনোযোগী ছিল, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বর্ষার চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পিত জনসেবা
বর্ষা আসন্ন হওয়ায় নিকাশি ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আশ্বস্ত করেছেন যে, মানুষের সেবায় সরকার বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক শূন্যতা যাতে কোনোভাবেই জনজীবনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য বিজেপি বিধায়কদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু এবং বস্তি এলাকায় কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কঠোর জরিমানা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিউআর কোড ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে শহরকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার।