অপ্রয়োজনীয় এআই ব্যবহারে রাশ টানার ডাক! পরিবেশ বাঁচাতে এবার নিজস্ব ‘গ্রিন এআই’ মডেল তৈরি করবে আইসার

অপ্রয়োজনীয় এআই ব্যবহারে রাশ টানার বার্তা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি তৈরিতে একজোট আইসার ও গ্রিন এআই
কথায় কথায় গুগল জেমিনি বা চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শুধু মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি বা কগনিটিভ স্কিল কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং পরিবেশের ওপর ফেলছে মারাত্মক প্রভাব। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আইসার কলকাতা এবং গ্রিন এআই সার্ভিসেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনাসভায় দেশের বিশিষ্ট আইআইটি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা এআই-এর এই যথেচ্ছ ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিবেশ রক্ষায় সীমিত এআই ব্যবহারের আহ্বান
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর বড় ডেটা সেন্টারগুলো চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জলের প্রয়োজন হয়, যা অত্যধিক উত্তাপ তৈরি করে পরিবেশকে উষ্ণ করে তুলছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় এখন থেকে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভাষিণী’ প্রোজেক্টের সিইও অমিতাভ নাগ জানান, প্রথাগত বিশাল লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ওপর নির্ভর না করে ছোট অথচ কার্যকরী এআই মডেল তৈরির দিকে ভারতের নজর দেওয়া উচিত। মাত্র তিনটি জিপিইউ ব্যবহার করেই ভয়েস ফার্স্ট কলসেন্টারের মতো প্রযুক্তি চালানো সম্ভব, যা সম্পদ অপচয় রোধ করবে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে নতুন দিশা
এই পরিস্থিতিতে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের ব্যবহারে টোকেন-ভিত্তিক কোনো নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন গ্রিন এআই সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা প্রসেনজিৎ মজুমদার। তিনি জানান, বিদেশি ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারত এখন নিজস্ব ডোমেন-নির্ভর ও ভাষাভিত্তিক এআই মডেল তৈরির জন্য প্রস্তুত। আইসার কলকাতার ডিরেক্টর প্রফেসর এস কে খারে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই লক্ষ্য পূরণে গ্রিন এআই সার্ভিসেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে আইসার কলকাতা।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার মেলবন্ধন ঘটানো। আইআইটি খড়গপুরের অধ্যাপক সুদেষ্ণা সরকারের প্রস্তাবিত নতুন এআই ফ্রেমওয়ার্ক প্রযুক্তি শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করবে, যার ফলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের পড়ুয়ারাও তাদের মাতৃভাষায় আধুনিক প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাবে। স্বল্প প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে দেশীয় ও টেকসই এআই প্রযুক্তি গড়ে তোলাই এখন ভারতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে।