আজ রাতেই পৃথিবীতে তীব্র সৌরঝড়ের আঘাত, ভারতের আকাশেও কি ঘটবে ম্যাজিক!

মহাকাশে সূর্যের এক বিশাল বিস্ফোরণের পর আজ সোমবার রাতের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে চলেছে তীব্র ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরঝড়। গত ৬ জুন সূর্যের অত্যন্ত সক্রিয় অংশ ‘অ্যাক্টিভ রিজন ৪৪৬১’ থেকে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। এর ফলে তৈরি হওয়া একটি বিশাল এবং ঘন চৌম্বকীয় গ্যাসীয় পিণ্ড বা ফিলামেন্ট প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। আমেরিকার মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র (এসডব্লিউপিসি) ইতিমধ্যেই পৃথিবীতে একটি ‘G3’ বা তীব্র মাত্রার ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় আছড়ে পড়ার সতর্কতা জারি করেছে, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী সাময়িকভাবে ‘G4’ মাত্রাতেও পৌঁছাতে পারে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এই মহাজাগতিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
কী এই ফিলামেন্ট এবং কেন এই চরম সতর্কতা
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের বায়ুমণ্ডলে ভাসমান বিদ্যুতের তৈরি বিশাল সেতুর মতো অংশকে ফিলামেন্ট বলা হয়। এর ভেতরের গ্যাস সূর্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় কিছুটা ঠান্ডা হলেও তা অত্যন্ত ভারী এবং ঘন হয়ে থাকে। সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র যখন নিজস্ব ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তখনই এই ফিলামেন্টটি তীব্র গতিতে মহাশূন্যে ছিটকে আসে। এবারের ফিলামেন্টটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক ঢাল বা সুরক্ষা কবচ ভেদ করে তীব্র ভূ-চৌম্বকীয় আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাবে সাময়িকভাবে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও রেডিও তরঙ্গে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে।
ভারতের আকাশে প্রভাব ও মেরুজ্যোতির সম্ভাবনা
এই সৌরঝড়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ইতিবাচক দিক হলো ‘অরোরা’ বা মেরুজ্যোতির সৃষ্টি। সাধারণত পৃথিবীর মেরু অঞ্চলেই এই অপরূপ আলোর খেলা দেখা গেলেও, ঝড়ের মাত্রা ‘G3’ বা ‘G4’ হলে এই আলো অনেক নিচের অক্ষাংশে নেমে আসে। আবহাওয়া পরিষ্কার এবং অন্ধকার থাকলে আজ সোমবার রাতে ভারতের উত্তরাঞ্চল, সেন্ট্রাল ইউরোপ এবং আমেরিকার বেশ কিছু অংশের আকাশে সবুজ, বেগুনি ও লাল আলোর এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যেতে পারে। তবে এই আলোর খেলার তীব্রতা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সৌর মেঘের চৌম্বকীয় দিক বা ‘Bz’ এর ওপর। এই মেঘটি যখন পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকা উপগ্রহগুলোকে পার করবে, ঠিক তখনই আঘাত হানার ১৫ থেকে ৬০ মিনিট আগে এর চূড়ান্ত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।