জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ মামলা, এবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির মুখোমুখি তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে!

নির্বাচনের আগে জাল নথির মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল এবং সেখানে অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে এবার বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই মামলার যোগসূত্রে কয়েকদিন আগে শ্রেয়া পাণ্ডের ঘনিষ্ঠ কল্যাণ শুক্লাকে ম্যারাথন জেরা করা হয়। তাঁর কলকাতার আরবানার আবাসন থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং বয়ানের ভিত্তিতেই এদিন তৃণমূল নেত্রীকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।
কল্যাণ শুক্লাকে জেরার পরেই তলব
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে কল্যাণ শুক্লার আরবানার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ধৃত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ডিজিটাল নথি উদ্ধার করা হয়। কল্যাণের মোবাইল ফোন ঘেঁটে বেশ কিছু চ্যাটের হদিস পান তদন্তকারীরা, যেখানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি খুব কম দামে কেনা-বেচার উল্লেখ রয়েছে। এরপর কল্যাণকে ইডি দপ্তরে ডেকে প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই শ্রেয়া পাণ্ডের নাম উঠে আসে এবং সোমবার সকালে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন। তবে বেআইনি লেনদেনের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি এই তৃণমূল নেত্রী।
ঘটনার নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন
এই মামলার শিকড় বেশ গভীর এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী মহলে বিস্তৃত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। জাল নথির সাহায্যে সরকারি-বেসরকারি জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইতিপূর্বেই ব্যবসায়ী জয় কামদার, কুখ্যাত ‘সোনা পাপ্পু’ এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহাকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণের মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়েছে। এই জিজ্ঞাসাবাদের জেরে আগামী দিনে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির জাল কতদূর বিস্তৃত তা স্পষ্ট হবে এবং এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।