রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখরের, মমতার ছবিতেও দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ!

তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি দলও ছাড়লেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি। দল যে জনমানস থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিপর্যয়ের পর কোনো গঠনমূলক বিশ্লেষণ হয়নি, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা।
দুর্নীতির শেকড় ও নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ
সুখেন্দুশেখরের দাবি, দলে দুর্নীতির সূত্রপাত সেই ২০১১ সাল থেকেই। ক্ষমতায় আসার পরপরই ডেলো পাহাড়ে চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং ১০-১৫ লক্ষ টাকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে তিনি নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, দলে কোনো আদর্শ ছিল না, বরং সৎ নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। যাঁদের কোনো রাজনৈতিক অতীত নেই, এমন নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাবাদী মানুষ সারাক্ষণ নেতৃত্বের চারপাশে ঘুরঘুর করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দলের শীর্ষ নেতাদের বিপুল সম্পত্তি এবং হাসপাতাল সংক্রান্ত বিষয়ে ফরেনসিক অডিটেরও দাবি তুলেছেন সদ্য প্রাক্তন এই সাংসদ।
আর জি কর ইস্যু ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পদত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর জি কর কাণ্ড। তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তোলায় উলটে অভিযুক্তদেরই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। সুখেন্দুশেখরের মতে, চব্বিশের নির্বাচনের পর আর জি কর ইস্যুতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদই প্রমাণ করে শাসকদল জনসমর্থন হারিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বর্ষীয়ান সাংসদের এই পদত্যাগ এবং প্রকাশ্যে দলের তীব্র সমালোচনা তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অসন্তোষকেই সামনে আনল, যা আগামী দিনে দলের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনীতি থেকে তিনি এখনই পুরোপুরি সন্ন্যাস নিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি এই প্রবীণ নেতা।