দিল্লিতে মমতা-অভিষেক, আর বাংলায় ‘গোপন’ বৈঠক! তৃণমূলে কি বড়সড় ভাঙনের কাউন্টডাউন শুরু?

বিদ্রোহী সাংসদদের গোপন বৈঠক ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। ঠিক সেই সময়েই রবিবার রাতে রাজধানী শহরে দলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন, যা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্রের খবর, এই বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে মানতে নারাজ। পাশাপাশি, গণইস্তফার মতো চরম পদক্ষেপ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দুর্নীতির ক্ষোভ ও রাজনৈতিক প্রভাব
দলের অন্দরে চলা দুর্নীতি এবং মাত্রাছাড়া জনরোষকেই এই সম্ভাব্য পতনের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সোমবার সকালেই প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায় তৃণমূল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এই ক্ষোভের কথাই স্পষ্ট করেছেন। এই বিদ্রোহ যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটে তাঁর অবস্থানকে অনেকটাই দুর্বল করে তুলবে।
ছবি ফাঁস ঘিরে অন্তর্দ্বন্দ্ব
এই গোপন বৈঠকের একটি ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে অন্তত আটজন সাংসদকে দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত এক মহিলা সাংসদ গোপনে ছবি তুলে তা শীর্ষস্থানীয় এক কেন্দ্রীয় নেতার কাছে পাঠানোর কথা বললে দক্ষিণবঙ্গের এক সাংসদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সোমবারও কেন্দ্রীয় সরকারের একটি দফতরে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদকে একত্রে দেখা যাওয়ায় দলবদলের জল্পনা আরও জোরাল হয়েছে। অন্যদিকে, সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন যে বিজেপির তরফ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি দলের সঙ্গেই রয়েছেন।